Board Challenge: পুনর্নিরীক্ষণের ৯টি নিয়ম, আবেদন পদ্ধতি ও তারিখ

A step-by-step guide to the HSC result re-scrutiny process for 2025.

1

Board Challenge: এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৫-এর ফল নিয়ে চিন্তিত? ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া জেনে নিন। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের দেওয়া ৯টি নতুন নিয়ম ও ১৭ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদনের সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত গাইড।

এইচএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের ৯টি নিয়ম: আবেদন করার আগে যা অবশ্যই জানতে হবে

এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর হাজারো শিক্ষার্থীর মনে আশা আর নিরাশার দোলাচল শুরু হয়। কেউ কাঙ্ক্ষিত ফলাফলে হাসে, আবার কেউ হয়তো সামান্য কিছু নম্বরের জন্য নিজের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে না। অনেক সময় মনে সংশয় জাগে, “আমার তো আরও ভালো নম্বর পাওয়ার কথা ছিল!” এই ভাবনাটা অমূলক নয়। পরীক্ষার খাতায় নম্বর গণনায় ভুল বা কোনো উত্তর অমূল্যায়িত থাকার মতো ঘটনা ঘটতেই পারে।

একজন শিক্ষা প্রতিবেদক হিসেবে প্রতি বছর আমি এই চিত্রটা খুব কাছ থেকে দেখি। শিক্ষার্থীদের এই উদ্বেগ ও সংশয় দূর করার জন্যই শিক্ষা বোর্ড ‘ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণ’ বা ‘বোর্ড চ্যালেঞ্জ’ এর সুযোগ দেয়। তবে আনন্দের বিষয় হলো, সঠিকভাবে আবেদন করলে অনেক শিক্ষার্থীর ফলাফল পরিবর্তনও হয়।

কিন্তু কীভাবে আবেদন করবেন? নিয়মগুলো কী কী? এই পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে যেন কোনো বিভ্রান্তি না থাকে, সেজন্যই আজকের এই লেখা। আমরা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের জারি করা নতুন ৯টি নিয়ম ধাপে ধাপে আলোচনা করব, যাতে আপনি কোনো ভুল ছাড়াই সফলভাবে আবেদন করতে পারেন।

এই লেখায় যা জানবেন

  • ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন কবে থেকে কবে পর্যন্ত করা যাবে।
  • বোর্ডের দেওয়া নতুন ৯টি নিয়ম কী কী?
  • অনলাইনে আবেদন করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া (ধাপে ধাপে)।
  • প্রতিটি বিষয়ের জন্য কত টাকা ফি এবং কীভাবে পরিশোধ করবেন।
  • আবেদন করার সময় সাধারণ যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলতে হবে।

ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণ আসলে কী? এটা কি খাতা নতুন করে দেখা?

আবেদন করার আগে সবচেয়ে বড় যে ভুল ধারণাটি ভাঙা দরকার, তা হলো—পুনর্নিরীক্ষণে আপনার পরীক্ষার খাতা নতুন করে মূল্যায়ন করা হয় না। অর্থাৎ, কোনো শিক্ষক আপনার লেখা উত্তর নতুন করে পড়বেন না।

তাহলে কী করা হয়? মূলত চারটি বিষয় দেখা হয়:

  • সব প্রশ্নের উত্তরে নম্বর দেওয়া হয়েছে কি না।
  • প্রাপ্ত নম্বর গণনায় কোনো ভুল হয়েছে কি না।
  • নম্বরগুলো ওএমআর শিটে (OMR Sheet) সঠিকভাবে তোলা হয়েছে কি না।
  • প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে বৃত্ত ভরাটের মিল আছে কি না।

অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, মূলত এই গণনার ভুলেই অনেক সময় শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য নম্বর যোগ হয় না। তাই আত্মবিশ্বাস থাকলে আবেদন করতে দ্বিধা করা উচিত নয়।

এইচএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণ ২০২৫: গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও ফি

যেকোনো কিছুর আগে সময়সীমা মাথায় রাখা জরুরি। বোর্ড থেকে এবছরের জন্য যে তারিখগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে, তা হলো:

  • আবেদন শুরুর তারিখ: ১৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • আবেদন শেষের তারিখ: ২৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • প্রতিটি পত্রের জন্য ফি: ১৫০ টাকা

বিশেষ দ্রষ্টব্য: বাংলা বা ইংরেজির মতো যেসব বিষয়ে দুটি পত্র (যেমন: বাংলা ১ম পত্র ও ২য় পত্র) রয়েছে, সেগুলোকে দুটি আলাদা বিষয় হিসেবে গণ্য করা হবে। অর্থাৎ, বাংলা বিষয়ের জন্য আবেদন করতে চাইলে ১ম ও ২য় পত্রের জন্য মোট (১৫০ + ১৫০) = ৩০০ টাকা ফি প্রযোজ্য হবে।

বোর্ডের নতুন ৯টি নিয়ম: ধাপে ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এ বছর ম্যানুয়াল কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। চলুন, ৯টি নিয়মকে ভেঙে ধাপে ধাপে বুঝে নেওয়া যাক।

ধাপ ১: ওয়েবসাইটে প্রবেশ

প্রথমে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd আবেদন পোর্টালে যেতে হবে। ওয়েবসাইটের ঠিকানা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে গিয়ে আপনার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং বোর্ডের নাম (ড্রপ-ডাউন মেন্যু থেকে) নির্বাচন করে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ২: মোবাইল নম্বর প্রদান

পরবর্তী ধাপে আপনার একটি ব্যক্তিগত ও সক্রিয় মোবাইল নম্বর দিতে হবে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আপনার আবেদনের স্ট্যাটাস এবং পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল এই নম্বরেই এসএমএস (SMS) এর মাধ্যমে পাঠানো হবে।

ধাপ ৩: বিষয় নির্বাচন করা

এবার স্ক্রিনে আপনার বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখতে পাবেন। আপনি যে এক বা একাধিক বিষয়ের ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে চান, সেগুলোর পাশের চেক-বক্সে টিক চিহ্ন দিন। এরপর ‘ফি প্রদান করুন’ বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৪: ফি এর পরিমাণ নিশ্চিত করা

আপনি কয়টি পত্র নির্বাচন করেছেন, তার ওপর ভিত্তি করে মোট কত টাকা ফি দিতে হবে, তা স্ক্রিনে দেখানো হবে। প্রতিটি পত্রের জন্য ফি ১৫০ টাকা।

ধাপ ৫: পেমেন্ট পদ্ধতি নির্বাচন ও ফি প্রদান

বিকাশ, নগদ, সোনালি সেবা, রকেট বা টেলিটক সিমের মাধ্যমে আপনি ফি পরিশোধ করতে পারবেন। পোর্টালেই প্রতিটি মাধ্যমের জন্য বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া থাকবে। প্রয়োজনে ‘হেল্প’ বাটনে ক্লিক করে প্রক্রিয়াটি দেখে নিতে পারেন।

ধাপ ৬: আবেদন চূড়ান্তভাবে জমা দিন

ফি পরিশোধ সফলভাবে সম্পন্ন হলে পোর্টালে ফিরে এসে ‘জমা দিন’ বা ‘Submit’ বাটনে ক্লিক করুন। এর মাধ্যমে আপনার আবেদনটি চূড়ান্তভাবে বোর্ডে জমা হবে।

ধাপ ৭: নতুন বিষয় যুক্ত করা

যদি আবেদন জমা দেওয়ার পর মনে হয় আরও কোনো বিষয়ের জন্য আবেদন করবেন, তাহলেও সুযোগ রয়েছে। ২৩ অক্টোবরের মধ্যে একই প্রক্রিয়ায় নতুন বিষয় নির্বাচন করে শুধু সেটির জন্য ফি প্রদান করলেই হবে। নতুন করে মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

ধাপ ৮: আবেদন পরিবর্তন বা মুছে ফেলা

যতক্ষণ পর্যন্ত ফি পরিশোধ না করেছেন, ততক্ষণ আপনি আপনার নির্বাচিত বিষয় পরিবর্তন করতে পারবেন। ‘মুছে ফেলুন’ বা ‘Delete’ বাটনে ক্লিক করে আগের নির্বাচন বাতিল করে নতুন করে বিষয় বেছে নিতে পারবেন।

  • গুরুত্বপূর্ণ: একবার কোনো বিষয়ের জন্য ফি জমা দিয়ে দিলে, সেই আবেদন আর বাতিল করা যাবে না এবং কোনো অবস্থাতেই টাকা ফেরতযোগ্য নয়।

ধাপ ৯: শুধু অনলাইনেই আবেদন বোর্ড স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, হাতে হাতে বা ম্যানুয়ালি কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তাই পুরো প্রক্রিয়াটি সতর্কতার সঙ্গে অনলাইনে সম্পন্ন করুন।

ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন আপনার অধিকার। যদি আপনার মনে হয় ফলাফলে কোনো গরমিল হয়েছে, তবে অবশ্যই এই সুযোগটি নেওয়া উচিত। বোর্ডের দেওয়া নিয়মগুলো এখন আপনার হাতের মুঠোয়। শান্ত মাথায়, ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করুন। মনে রাখবেন, একটি সঠিক আবেদন হয়তো আপনার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। আপনার আত্মবিশ্বাস সত্যি হোক, এই কামনা রইল।

সম্পর্কিত আর্টিকেলএইচএসসি পরীক্ষা ২০২৫: ১৬ অক্টোবর ফল প্রকাশ, যেভাবে জানবেন আপনার ফলাফল

Leave A Reply

Your email address will not be published.