স্টাডি গ্যাপ দিয়ে কি অনার্স করা সম্ভব? জেনে নিন বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম

1

কত বছর গ্যাপ দিয়ে অনার্স করা যায়: এইচএসসির পর পড়াশোনায় গ্যাপ? দুশ্চিন্তা না করে জেনে নিন বাংলাদেশের পাবলিক, জাতীয় এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কত বছর গ্যাপ দিয়ে অনার্স করা যায় এবং ভর্তির সঠিক নিয়মাবলী।

কত বছর গ্যাপ দিয়ে অনার্স করা যায়

এইচএসসি পরীক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পাওয়া, পারিবারিক সমস্যা, আর্থিক সংকট বা অন্য কোনো কারণে আপনার পড়াশোনায় কি এক বা দুই বছরের বিরতি বা ‘স্টাডি গ্যাপ’ পড়েছে? এই প্রশ্নটি মাথায় এলেই কি আপনার ভেতর এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ কাজ করে? আপনি একা নন। বাংলাদেশের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মনে এই একই প্রশ্ন ঘুরপাক খায়— “আমার কি উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন এখানেই শেষ? স্টাডি গ্যাপ নিয়ে কি ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স করা সম্ভব?” আপনার এই সকল উদ্বেগ দূর করে একটি স্বচ্ছ ধারণা দেওয়াই আজকের আলোচনার মূল উদ্দেশ্য। প্রচলিত ধারণা বা গুজবের উপর নির্ভর না করে, চলুন বাংলাদেশের পাবলিক, জাতীয় এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্টাডি গ্যাপ সংক্রান্ত প্রকৃত নিয়মাবলী জেনে নেওয়া যাক এবং খুঁজে বের করি আপনার জন্য সেরা পথটি।

এই লেখায় যা থাকছে:)

  • স্টাডি গ্যাপ আসলে কী এবং এটি কেন হয়?
  • পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য কত বছরের গ্যাপ গ্রহণযোগ্য?
  • “সেকেন্ড টাইমার” হিসেবে কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে?
  • জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টাডি গ্যাপ নিয়ে ভর্তির সুনির্দিষ্ট নিয়ম।
  • প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে স্টাডি গ্যাপ কতটা বাধা সৃষ্টি করে?
  • স্টাডি গ্যাপের সময়টিকে নিজের হিসেবে কাজে লাগানোর কৌশল।

এইচএসসির পর স্টাডি গ্যাপ থাকলে কি অনার্স করা সম্ভব?

এই প্রশ্নের সবচেয়ে সহজ এবং ইতিবাচক উত্তর হলো— হ্যাঁ, অবশ্যই সম্ভব। একটি স্টাডি গ্যাপ বা পড়াশোনার বিরতি আপনার উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে শেষ করে দিতে পারে না। তবে আপনাকে অবশ্যই বাস্তবসম্মত এবং কৌশলী হতে হবে। বাংলাদেশে তিন ধরনের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে— পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। প্রত্যেকটির ক্ষেত্রেই স্টাডি গ্যাপ সংক্রান্ত নিয়মাবলী ভিন্ন ভিন্ন।

কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাম্প্রতিক সময়ে পাশ করা শিক্ষার্থীদের বেশি অগ্রাধিকার দেয়। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান, যেমন জাতীয় এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, স্টাডি গ্যাপের বিষয়ে অনেক বেশি নমনীয়। তাই হতাশ না হয়ে আপনার পরিস্থিতি অনুযায়ী কোন ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় আপনার জন্য উপযুক্ত, তা খুঁজে বের করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখতে হবে, একটি গ্যাপ মানে পিছিয়ে পড়া নয়, বরং এটি হতে পারে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ। সঠিক তথ্য এবং পরিকল্পনা থাকলে এই গ্যাপ নিয়েও সফলভাবে অনার্স সম্পন্ন করা সম্ভব।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য কত বছরের গ্যাপ গ্রহণযোগ্য?

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কাছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সবসময়ই প্রথম পছন্দ। তবে ভর্তির ক্ষেত্রে এখানকার নিয়মকানুন বেশ কঠোর, বিশেষ করে স্টাডি গ্যাপের বিষয়ে। তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে বেশিরভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাশ করা শিক্ষার্থীদের সুযোগ দিতে চায়।

সাধারণ নিয়মাবলী:

  • প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, মেডিকেল কলেজগুলোর মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণত কোনো স্টাডি গ্যাপ গ্রহণ করা হয় না। ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে যে, আবেদনকারীকে অবশ্যই নির্দিষ্ট বছরে (সাধারণত ভর্তি পরীক্ষার বছরেই) এইচএসসি পাশ করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ সালের ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদনকারীকে সাধারণত ২০২৫ সালেই এইচএসসি পাশ করতে হবে। এর আগের বছরের শিক্ষার্থীরা এখানে আবেদনের সুযোগ পান না।
  • সেকেন্ড টাইমারদের সুযোগ: কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এক বছরের গ্যাপ গ্রহণ করে, যা “সেকেন্ড টাইম” ভর্তি পরীক্ষা নামে পরিচিত। এর মানে হলো, আপনি যদি ২০২৪ সালে এইচএসসি পাশ করে থাকেন, তবে ২০২৫ সালের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। তবে এই সুযোগ সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই।

কেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্টাডি গ্যাপের বিষয়ে এত কঠোর? এর প্রধান কারণ হলো সীমিত আসন এবং বিপুল সংখ্যক আবেদনকারী। প্রতি বছর लाखों শিক্ষার্থী এইচএসসি পাশ করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাম্প্রতিকতম ব্যাচকে সুযোগ দেওয়াকেই যৌক্তিক মনে করে। তাদের ধারণা, যারা সদ্য পাশ করেছে, তারা পড়াশোনার ধারাবাহিকতার মধ্যে রয়েছে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত। যদিও এই ধারণা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবে এটিই প্রচলিত বাস্তবতা।

“সেকেন্ড টাইমার” হিসেবে কোন কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেওয়া যায়?

যারা এক বছর বিরতি দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন, তাদের “সেকেন্ড টাইমার” বলা হয়। যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (কিছু ইউনিট বাদে), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (কিছু ইউনিট বাদে), বুয়েট এবং মেডিকেলের মতো জায়গায় সেকেন্ড টাইমের সুযোগ নেই, তবুও বেশ কিছু প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সুযোগটি এখনো রয়েছে।

যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত সেকেন্ড টাইম পরীক্ষার সুযোগ থাকে (সর্বশেষ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অবশ্যই দেখে নিতে হবে):

  • জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (JU): এই বিশ্ববিদ্যালয়টি সেকেন্ড টাইমারদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। এখানে প্রায় সকল ইউনিটেই দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকে।
  • গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (GST – General, Science and Technology): ২২টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে গঠিত এই গুচ্ছে সেকেন্ড টাইমারদের জন্য আবেদনের সুযোগ রাখা হয়। এটি সেকেন্ড টাইমারদের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগগুলোর একটি।
  • কৃষি গুচ্ছ: বাংলাদেশের সকল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একত্রে ভর্তি পরীক্ষা নেয় এবং এখানেও দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকে। যারা কৃষি, ভেটেরিনারি বা ফিশারিজ নিয়ে পড়তে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি একটি দারুণ সুযোগ।
  • বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (BUP): এই বিশ্ববিদ্যালয়টিও সেকেন্ড টাইমারদের আবেদন গ্রহণ করে থাকে।

আপনি যদি সেকেন্ড টাইমার হিসেবে প্রস্তুতি নেন, তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আপনার হাতে একটি বছর অতিরিক্ত সময় ছিল, যা আপনাকে অন্যদের চেয়ে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করতে পারে। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ আছে, তার একটি তালিকা তৈরি করে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে পড়াশোনা করলে সাফল্য পাওয়া সম্ভব।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে (National University) স্টাডি গ্যাপ নিয়ে ভর্তির নিয়ম কী?

যাদের স্টাডি গ্যাপ দুই বা তার বেশি বছর, তাদের জন্য সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা হলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কঠোর নিয়মের পরিবর্তে এখানকার নিয়মকানুন অনেক বেশি নমনীয়, যা বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেয়।

সাধারণ নিয়মাবলী:

  • গ্যাপের সময়সীমা: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ভর্তির বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণত এসএসসি এবং এইচএসসি পাশের সালের একটি সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া থাকে। সাধারণত, এইচএসসি পাশের পর ২-৩ বছরের গ্যাপ থাকলেও আবেদন করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তির ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে ২০২২ বা ২০২৩ সালে এইচএসসি পাশ করতে হতে পারে। এই নিয়ম প্রতি বছর পরিবর্তিত হয়, তাই ভর্তির আগে অবশ্যই সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে।
  • ভর্তি প্রক্রিয়া: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ভর্তি পরীক্ষা হয় না। এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের (GPA) উপর ভিত্তি করে মেধা তালিকা তৈরি করা হয়। যাদের জিপিএ ভালো, তারা সহজেই সরকারি কলেজগুলোতে পড়ার সুযোগ পায়।
  • ডিগ্রি (পাস) কোর্স: যদি আপনার স্টাডি গ্যাপ অনার্সের জন্য নির্ধারিত সীমার চেয়েও বেশি হয় (যেমন ৪-৫ বছর), তাহলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি (পাস) কোর্সে ভর্তির নিয়ম আরও বেশি শিথিল। অনেক বেশি গ্যাপ নিয়েও এখানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মূলত বাংলাদেশের সকল স্তরের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার আওতায় আনার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একারণেই তাদের ভর্তির নিয়মকানুন অনেক সহজ ও নমনীয়। যাদের আর্থিক বা পারিবারিক কারণে পড়াশোনায় বিরতি নিতে হয়, তাদের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একটি আশীর্বাদস্বরূপ।

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কত বছরের স্টাডি গ্যাপ গ্রহণযোগ্য?

স্টাডি গ্যাপ থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সবচেয়ে নমনীয় এবং welcoming একটি জায়গা। এখানে ভর্তির ক্ষেত্রে স্টাডি গ্যাপ সাধারণত কোনো বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।

সাধারণ নিয়মাবলী:

  • নমনীয় নীতি: বেশিরভাগ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ৪-৫ বছরের স্টাডি গ্যাপ পর্যন্ত সহজেই গ্রহণ করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষ করে যদি আপনার গ্যাপের পেছনে যৌক্তিক কারণ থাকে (যেমন চাকরি, অসুস্থতা, বিদেশে অবস্থান), তবে এর চেয়ে বেশি গ্যাপ থাকলেও ভর্তি হওয়া সম্ভব। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠানে সাধারণত ৩ বছরের গ্যাপ গ্রহণ করা হয়, তবে বিশেষ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে এর বেশি গ্যাপ থাকলেও ভর্তির আবেদন করা যেতে পারে।
  • ভর্তি প্রক্রিয়া: প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত নিজস্ব ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করে। এই পরীক্ষায় আপনার অ্যাকাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি ইংরেজি এবং গণিতে আপনার দক্ষতারও মূল্যায়ন করা হয়। আপনার স্টাডি গ্যাপ থাকলেও যদি আপনি ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করতে পারেন, তবে ভর্তিতে কোনো সমস্যা হয় না।
  • সরাসরি যোগাযোগ: যদি আপনার স্টাডি গ্যাপ অনেক বেশি হয় (যেমন ৫ বছরের বেশি), তবে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডমিশন অফিসে যোগাযোগ করা। আপনার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করলে এবং পড়াশোনা করার সদিচ্ছা প্রকাশ করলে কর্তৃপক্ষ প্রায়শই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়টির ইউজিসি (University Grants Commission) অনুমোদন আছে কিনা এবং তাদের শিক্ষার মান কেমন, তা যাচাই করে নিন। অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় স্টাডি গ্যাপ থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কাউন্সেলিং এবং ফাউন্ডেশন কোর্সের ব্যবস্থা করে, যা পড়াশোনার ধারায় ফিরতে সাহায্য করে।

পড়াশোনার এই বিরতি বা গ্যাপকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানোর উপায় কী?

একটি স্টাডি গ্যাপকে কেবল সময়ের অপচয় হিসেবে না দেখে, এটিকে আত্ম-উন্নয়নের একটি সুযোগ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। এই সময়টিকে আপনি কীভাবে কাজে লাগাচ্ছেন, তার উপর আপনার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করে।

  • দক্ষতা বৃদ্ধি: এই সময়ে আপনি কোনো কারিগরি দক্ষতা (যেমন গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং) অর্জন করতে পারেন। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম (যেমন Coursera, Udemy) থেকে সার্টিফিকেট কোর্স করতে পারেন যা আপনার সিভিতে বাড়তি গুরুত্ব যোগ করবে।
  • ভাষাগত দক্ষতা: ইংরেজি বা অন্য কোনো বিদেশি ভাষা শেখার জন্য এই সময়টি দারুণ। IELTS বা TOEFL-এর মতো পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন, যা ভবিষ্যতে বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা চাকরির ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।
  • কাজের অভিজ্ঞতা: কোনো পার্ট-টাইম বা ফুল-টাইম চাকরিতে যোগ দিলে তা আপনার বাস্তব অভিজ্ঞতা বাড়াবে এবং আপনাকে আর্থিক স্বাধীনতা দেবে। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে পড়াশোনার বিষয় বেছে নিতেও সাহায্য করতে পারে।
  • ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি: আপনি যদি সেকেন্ড টাইমার হিসেবে কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির লক্ষ্য নিয়ে থাকেন, তবে এই একটি বছর পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

আরও পড়ুনঅফিস সহায়ক এর কাজ কি? যোগ্যতা, বেতন ও ক্যারিয়ার গাইড

এইচএসসির পর পড়াশোনায় একটি গ্যাপ বা বিরতি হয়তো আপনার পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটেনি, কিন্তু এটি কোনোভাবেই আপনার উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে থামিয়ে দেওয়ার কারণ হতে পারে না। এই আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট যে, বাংলাদেশে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্যই কোনো না কোনো দরজা খোলা রয়েছে। আপনার লক্ষ্য যদি হয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, তবে সেকেন্ড টাইমার হিসেবে নির্দিষ্ট কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনি চেষ্টা করতে পারেন। যদি আপনার গ্যাপ কিছুটা বেশি হয়, তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে সম্মানসহকারে পড়াশোনা শেষ করার সুযোগ দেবে। আর যদি আপনি দ্রুত গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে চান এবং আপনার আর্থিক সামর্থ্য থাকে, তবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আপনার জন্য সর্বদা প্রস্তুত।

আপনার স্টাডি গ্যাপকে কোনো বোঝা না ভেবে, এটিকে একটি নতুন অভিজ্ঞতার অধ্যায় হিসেবে দেখুন। সঠিক তথ্য জানুন, নিজের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করুন এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে আপনার জন্য উপযুক্ত পথে এগিয়ে যান। মনে রাখবেন, যাত্রাটা থেমেছিল মাত্র, শেষ হয়ে যায়নি।

আরও পড়ুনBD Army Job: ৯৬তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে আবেদনের সুযোগ

1 Comment
  1. […] ক্যারিয়ার থেকে আরও: স্টাডি গ্যাপ দিয়ে কি অনার্স করা সম্ভব?… […]

Leave A Reply

Your email address will not be published.